সময় ব্যবস্থাপনা: "কাল থেকে শুরু করব"

· 2 min read · Syed Omar Faruk Towaha
সময় ব্যবস্থাপনা: "কাল থেকে শুরু করব"

বাংলাদেশে যদি কোনো জাতীয় বাক্য থাকে, সেটা সম্ভবত "কাল থেকে শুরু করব।" ডায়েট কাল থেকে, ব্যায়াম কাল থেকে, থিসিস লেখা কাল থেকে, ইংরেজি শেখা কাল থেকে। কাল আসে, আর আমরা আবার বলি, "কাল থেকে।"

কেন আমরা পিছিয়ে দিই

দীর্ঘসূত্রিতা (procrastination) মূলত অলসতা না। গবেষকরা এটাকে অনেক সময় আবেগ নিয়ন্ত্রণের সমস্যা হিসেবে দেখেন: কাজটা যখন বিরক্তিকর, কঠিন, অস্পষ্ট বা ভয়ের, তখন সেই অস্বস্তিকর অনুভূতি থেকে পালাতে আমরা অন্য কিছু করি। ফেসবুক, চা, ঘর গোছানো, যেকোনো কিছু।

আর মজার ব্যাপার, পরে অপরাধবোধ হয়, যা আবার অস্বস্তি বাড়ায়, আর চক্র চলতে থাকে।

কৌশল ১: কাজটা ছোট করুন

"থিসিস লেখা" একটা পাহাড়। "আজ পরিচিতি অংশের প্রথম অনুচ্ছেদ লিখব" একটা সিঁড়ির ধাপ। পাহাড় দেখে ভয় লাগে; সিঁড়িতে পা রাখা সহজ।

কৌশল ২: দুই মিনিটের নিয়ম

শুধু দুই মিনিট কাজ শুরু করুন। প্রায়ই শুরু করাটাই সবচেয়ে কঠিন; একবার শুরু হলে গতি চলে আসে। আর যদি দুই মিনিট পর সত্যিই থামতে চান, থামুন, অন্তত শুরু তো হলো।

কৌশল ৩: জরুরি বনাম গুরুত্বপূর্ণ

Urgent vs important
একটা উদাহরণ সপ্তাহ: জরুরি কিন্তু অগুরুত্বপূর্ণ কাজে কত সময় যায়।

আমরা প্রায়ই জরুরি কাজে ব্যস্ত থাকি (ফোন, মেসেজ, ছোট অনুরোধ), আর গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু জরুরি না এমন কাজ (দক্ষতা শেখা, স্বাস্থ্য, বড় প্রকল্প, সম্পর্ক) পিছিয়ে যায়। অথচ জীবনের বড় পরিবর্তন আসে সেখান থেকেই। প্রতিদিন অন্তত একটা গুরুত্বপূর্ণ-কিন্তু-জরুরি-না কাজের জন্য সময় রাখুন।

কৌশল ৪: দিনের সেরা সময় চিনুন

কেউ সকালে সবচেয়ে মনোযোগী, কেউ রাতে। কঠিন কাজ রাখুন নিজের সেরা সময়ে, আর ইমেইল-মেসেজের মতো সহজ কাজ রাখুন ক্লান্ত সময়ে।

কৌশল ৫: বিভ্রান্তি দূরে রাখুন

ফোন অন্য ঘরে, নোটিফিকেশন বন্ধ, ব্রাউজারে শুধু কাজের ট্যাব। ইচ্ছাশক্তির ওপর ভরসা করার চেয়ে পরিবেশ বদলানো অনেক বেশি কার্যকর।

কৌশল ৬: নিজেকে ক্ষমা করুন

শোনাতে অদ্ভুত লাগে, কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, যারা আগের দীর্ঘসূত্রিতার জন্য নিজেকে ক্ষমা করেন, তারা পরের বার কম পিছিয়ে দেন। অপরাধবোধ চক্রটা ভাঙতে হয়।

কৌশল ৭: জবাবদিহি

বন্ধুকে বলুন, "শুক্রবারের মধ্যে প্রথম অধ্যায় পাঠাব।" কেউ জানলে কাজটা শেষ করার সম্ভাবনা বাড়ে। একসাথে পড়ার বা কাজ করার বন্ধুও (study buddy) দারুণ কাজ করে।

একটা সহজ দৈনিক পরিকল্পনা

সকালে ৫ মিনিট:
১. আজকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ কী?
২. সেটার প্রথম ছোট ধাপ কী?
৩. কখন করব? (নির্দিষ্ট সময়)

রাতে ২ মিনিট:
- কী হলো? কী আটকাল? কাল কী বদলাব?

শেষ কথা

"কাল থেকে শুরু করব" বলাটা মানুষের স্বভাব। কিন্তু কাল কখনো আসে না; শুধু আজ আসে, প্রতিদিন। তাই বড় পরিকল্পনা না, আজ শুধু দুই মিনিট। কাজটা খুলুন, প্রথম লাইনটা লিখুন। বাকিটা হয়তো নিজে থেকেই হবে। আর না হলে, অন্তত কাল আবার দুই মিনিট দিয়ে শুরু করা যাবে।

// related

// prefer the terminal?

Open the terminal blog and type read shomoy-byabosthapona-kal-theke-shuru-korbo.