ফোনের নোটিফিকেশন বন্ধ করুন (অন্তত বেশিরভাগ)

একটা ছোট পরীক্ষা করেছিলাম: এক সপ্তাহ ধরে গুনেছিলাম দিনে ফোন কতবার "টিং" করে। বিভিন্ন অ্যাপের নোটিফিকেশন, গ্রুপ চ্যাট, শপিং অ্যাপের "ফ্ল্যাশ সেল!", গেমের "আপনার শক্তি পূর্ণ হয়েছে!", সংবাদ অ্যাপের ব্রেকিং নিউজ। সংখ্যাটা লজ্জাজনক রকম বেশি ছিল।
প্রতিটা নোটিফিকেশন কয়েক সেকেন্ডের। কিন্তু এর দাম কয়েক সেকেন্ডের না।

কেন এত ক্ষতিকর
কঠিন কাজ, যেমন লেখা, প্রোগ্রামিং, পড়াশোনা, বিশ্লেষণ, এর জন্য মাথায় অনেকগুলো জিনিস একসাথে ধরে রাখতে হয়। একটা নোটিফিকেশন সেই সাজানো জিনিসগুলো এলোমেলো করে দেয়। আগের গভীরতায় ফিরতে অনেক সময় লাগে। আর নোটিফিকেশনটা না খুললেও মনের একটা অংশ ভাবতে থাকে, "কে মেসেজ দিল?"
তাই ৫ সেকেন্ডের বিভ্রান্তির আসল দাম হতে পারে অনেক মিনিট।
কোনগুলো রাখবেন

রাখুন:
- ফোন কল (বিশেষ করে পরিবারের)
- কাছের মানুষদের সরাসরি মেসেজ
- ক্যালেন্ডারের রিমাইন্ডার
- ব্যাংকিং লেনদেনের সতর্কবার্তা (নিরাপত্তার জন্য)
- রাইড বা ডেলিভারি যখন অপেক্ষা করছেন
বন্ধ করুন:
- সামাজিক মাধ্যমের লাইক, কমেন্ট, "আপনি হয়তো চিনতে পারেন"
- শপিং অ্যাপের অফার
- গেমের নোটিফিকেশন
- বড় গ্রুপ চ্যাট (মিউট করুন, সময়মতো দেখুন)
- বেশিরভাগ সংবাদ অ্যাপ (খবর নিজে সময় করে পড়ুন)
ব্যাজও বন্ধ করুন
অ্যাপের আইকনের ওপর লাল সংখ্যা (৪৭টা অপঠিত!) একটা চাপ তৈরি করে, যেন কিছু অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। এগুলো বন্ধ করুন। মেসেজগুলো যেখানে ছিল, সেখানেই থাকবে।
ফোকাস মোড ব্যবহার করুন
এখনকার প্রায় সব ফোনে "Do Not Disturb" বা "Focus" মোড আছে। কাজের সময়, পড়ার সময়, ঘুমের সময় আলাদা মোড বানান। প্রতিটায় ঠিক করে দিন কারা আপনাকে পৌঁছাতে পারবে। পরিবারের কিছু মানুষকে ব্যতিক্রম রাখুন, যাতে জরুরি অবস্থায় যোগাযোগ বন্ধ না হয়।
একসাথে দেখার অভ্যাস
প্রতি মুহূর্তে না দেখে দিনে কয়েকবার নির্দিষ্ট সময়ে মেসেজ আর ইমেইল দেখুন। ধরুন প্রতি এক-দুই ঘণ্টায় একবার। বেশিরভাগ মেসেজ আসলে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে পারে। যা পারে না, তার জন্য মানুষ ফোন করে।
অফিসের সংস্কৃতি
সবাই যদি আশা করেন যে মেসেজের উত্তর এক মিনিটে আসবে, তাহলে কেউই গভীর কাজ করতে পারবেন না। দলের সাথে আলোচনা করুন: কোনটা জরুরি, জরুরি হলে কীভাবে জানাবেন (ফোন করুন, শুধু মেসেজ না), আর সাধারণ উত্তরের প্রত্যাশিত সময় কত।
শেষ কথা
ফোন একটা অসাধারণ যন্ত্র। কিন্তু নোটিফিকেশনগুলো বেশিরভাগই অন্যের প্রয়োজনে বানানো, আপনার না। কোন অ্যাপ আপনার মনোযোগ পাবে, সেই সিদ্ধান্তটা আজ থেকে নিজের হাতে নিন। প্রথম কয়েক দিন অস্বস্তি লাগবে, মনে হবে কিছু মিস করছেন। তারপর খেয়াল করবেন, আসলে অনেক কিছু ফিরে পেয়েছেন: সময়, মনোযোগ, আর একটু শান্তি।