রিভিউয়ার নাম্বার টু: একাডেমিয়ার খলনায়ক

গবেষকদের মধ্যে একটা সর্বজনীন রসিকতা আছে: রিভিউয়ার নাম্বার টু। কোনো নির্দিষ্ট মানুষ না, এক ধরনের আত্মা, যা প্রায় প্রতিটা পেপারের একজন রিভিউয়ারের ওপর ভর করে।
রিভিউয়ার ১ লেখেন: "ভালো অবদান, ছোটখাটো সংশোধন দরকার।" রিভিউয়ার ৩ লেখেন: "আরও দুটো রেফারেন্স যোগ করুন।" রিভিউয়ার ২ লেখেন তিন পৃষ্ঠা, যার সারমর্ম: আপনার পদ্ধতি ভুল, ডেটা প্রতিনিধিত্বমূলক না, ফলাফল অপ্রত্যাশিত না, আর আপনি কি ভেবে দেখেছেন যে আসলে একটা ভিন্ন প্রশ্ন নিয়ে কাজ করা উচিত ছিল?

পড়ার পাঁচটা পর্যায়

প্রথমবার পড়ার পর ল্যাপটপ বন্ধ করুন। একই দিনে উত্তর লিখবেন না। রাগের মাথায় লেখা প্রথম খসড়া কখনো কাউকে পাঠাবেন না, বিশেষ করে সম্পাদককে তো নয়ই।
রিভিউয়ার ২ প্রায়ই আংশিক সঠিক
রাগ কমলে আবার মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। কঠোর ভাষার নিচে প্রায়ই সত্যিকারের কিছু পয়েন্ট থাকে: একটা তুলনামূলক পরীক্ষা বাদ পড়েছে, একটা ব্যাখ্যা অস্পষ্ট, একটা অনুমানের যুক্তি দেওয়া হয়নি। অনেক সময় রিভিউয়ার ২ একজন মনোযোগী পাঠক, শুধু ভদ্রভাবে বলতে জানেন না। আর পেপারটা তাদের কারণেই ভালো হয়। (সব সময় না। কখনো কখনো রিভিউয়ার ২ শুধু চান আপনি তাদের পুরনো একটা পেপার উদ্ধৃত করুন।)
উত্তর দেওয়ার কৌশল
একটা টেবিল বানান। প্রতিটা মন্তব্য নম্বর দিয়ে আলাদা করুন। প্রতিটার পাশে লিখুন: কী বদলেছেন, কোথায় (পৃষ্ঠা, লাইন), আর কেন।
সবসময় ভদ্র থাকুন। "আমরা রিভিউয়ারকে এই মূল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ জানাই।" একাডেমিক জগতে এটা গভীর শ্বাস নেওয়ার সমান, এমনকি যখন মন্তব্যটা মূল্যবান না।
যা সম্ভব, করুন। বাড়তি একটা পরীক্ষা করা সম্ভব হলে করে ফেলুন। প্রায়ই এটাই গ্রহণের দ্রুততম পথ।
দ্বিমত করুন প্রমাণ দিয়ে, আবেগ দিয়ে না।
আমরা এই পরামর্শের প্রশংসা করি। তবে পদ্ধতি X প্রয়োগের জন্য লক্ষ্য অঞ্চলের লেবেলযুক্ত ডেটা প্রয়োজন, যা বর্তমানে পাওয়া যায় না। পরিবর্তে আমরা একটি সংবেদনশীলতা বিশ্লেষণ যোগ করেছি (অংশ ৫.৩), যা দেখায় আমাদের সিদ্ধান্ত তিনটি বিকল্প সীমায় অপরিবর্তিত থাকে।
সম্পাদকের কাজ সহজ করুন। পরিবর্তনগুলো হাইলাইট করুন, শুরুতে বড় পরিবর্তনের সারসংক্ষেপ দিন।
প্রত্যাখ্যাত হলে
সবার হয়, বিখ্যাত গবেষকদেরও। কাজের মন্তব্যগুলো নিয়ে পেপারটা উন্নত করুন, তারপর অন্য জার্নালে পাঠান। অনেক গুরুত্বপূর্ণ পেপার অন্তত একবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। একটা প্রত্যাখ্যান মানে একটা জার্নাল, একজন সম্পাদক আর তিনজন রিভিউয়ারের একদিনের মতামত, আপনার বিজ্ঞানী হিসেবে মূল্যের রায় না।
নিজে ভালো রিভিউয়ার হোন
যখন আপনার পালা আসবে, মনে রাখবেন কেমন লেগেছিল। নির্দিষ্ট হোন, গঠনমূলক হোন, "অবশ্যই ঠিক করতে হবে" আর "করলে ভালো" আলাদা করুন, আর মনে রাখুন লেখকরাও ক্লান্ত মানুষ, অনেক পরিশ্রম করেছেন। কঠোরতা আর দয়া পরস্পরবিরোধী না।
শেষ রহস্য
প্রতিটা পিএইচডি শিক্ষার্থী একসময় একটা অস্বস্তিকর সত্য আবিষ্কার করেন: একদিন নিজের লেখা একটা রিভিউ আবার পড়ে বুঝবেন, আপনিই রিভিউয়ার ২ হয়ে গেছেন। চেষ্টা করুন সেই সংস্করণ হতে, যিনি পদ্ধতির ব্যাপারে কঠোর, কিন্তু মানুষের প্রতি নরম।