গবেষণাপত্র পড়ার কৌশল

· 2 min read · Syed Omar Faruk Towaha
গবেষণাপত্র পড়ার কৌশল

পিএইচডির শুরুতে আমি গবেষণাপত্র পড়তাম গল্পের বইয়ের মতো: প্রথম পৃষ্ঠা থেকে শেষ পৃষ্ঠা, প্রতিটা শব্দ, প্রতিটা সমীকরণ। সপ্তাহে দুটো পেপার শেষ হতো, আর মনে থাকত প্রায় কিছুই না। এদিকে পড়ার তালিকা বাড়তে থাকত, ঘরের কোণায় জমে থাকা কাপড়ের স্তূপের মতো।

তারপর শিখলাম, পেপার পড়ার একটাই উপায় না।

তিন ধাপে পড়া

Three passes
বেশিরভাগ পেপার প্রথম ধাপেই থেমে যায়। অল্প কয়েকটা তিন ধাপ পর্যন্ত যায়।

কম্পিউটার বিজ্ঞানী এস. কেশভের একটা ছোট প্রবন্ধে বর্ণিত এই পদ্ধতি অনেক গবেষকের কাছে জনপ্রিয়।

ধাপ ১: পাখির চোখে দেখা (১০ মিনিট)

শুধু পড়ুন:

তারপর নিজেকে প্রশ্ন করুন: এটা কি আমার কাজের সাথে প্রাসঙ্গিক? মূল অবদান কী? আরও পড়ার মতো?

বেশিরভাগ পেপার এখানেই থেমে যাবে। এটা ফাঁকি না, এটা বাছাই।

ধাপ ২: মূল বিষয় বোঝা (প্রায় এক ঘণ্টা)

পুরো পেপার মনোযোগ দিয়ে পড়ুন, কিন্তু জটিল প্রমাণ আর খুঁটিনাটি বাদ দিন। মনোযোগ দিন:

শেষে ল্যাবের বন্ধুকে কয়েক মিনিটে পেপারটা বোঝাতে পারা উচিত।

ধাপ ৩: মনে মনে নতুন করে বানানো (কয়েক ঘণ্টা)

শুধু সেই পেপারগুলোর জন্য যেগুলো আপনার গবেষণার কেন্দ্রে। মনে মনে, বা কোড লিখে, পুরো কাজটা আবার তৈরি করার চেষ্টা করুন। প্রতিটা অনুমান প্রশ্ন করুন: অন্য ডেটায় কি কাজ করবে? কী পরীক্ষা করা হয়নি? দুর্বলতা কোথায়? নতুন গবেষণার ধারণা এখান থেকেই আসে।

নোট রাখার টেমপ্লেট

## পেপার: <শিরোনাম> (<লেখক>, <সাল>)
- এক বাক্যে সারাংশ:
- সমস্যা:
- মূল ধারণা:
- ডেটা / পরীক্ষা:
- প্রধান ফলাফল (সংখ্যাসহ):
- আমার চোখে দুর্বলতা:
- আমার কাজে কীভাবে লাগবে:
- পরে পড়তে হবে এমন রেফারেন্স:

পড়ার পর পাঁচ মিনিটের নোট পরে এক ঘণ্টার পুনরায় পড়া বাঁচায়। নোটগুলো এমন জায়গায় রাখুন যেখানে খোঁজা যায়।

আরও কিছু অভ্যাস

শেষ কথা

আপনি কখনো সব পড়তে পারবেন না। কেউ পারে না। লক্ষ্য বেশি পেপার পড়া না; লক্ষ্য সঠিক পেপারগুলো এত ভালোভাবে বোঝা যাতে তার ওপর নতুন কিছু দাঁড় করানো যায়। পড়ার তালিকার পাহাড় দেখে ভয় পাবেন না। প্রথম ধাপের দশ মিনিট দিয়ে শুরু করুন; পাহাড়ের অনেকটাই আসলে ছোট ছোট নুড়ি।

// related

// prefer the terminal?

Open the terminal blog and type read gobeshonapotro-porar-koushol.