পিএইচডি: পাঁচ বছরের প্রেম ও বিরহ

· 2 min read · Syed Omar Faruk Towaha
পিএইচডি: পাঁচ বছরের প্রেম ও বিরহ

পিএইচডি শুরু হয় প্রেমের মতো। প্রথম দিন সুপারভাইজারের অফিসে বসে গবেষণার বিষয় শুনে মনে হয়, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেই বাকি জীবন কাটাতে পারব। পৃথিবী বদলে দেব। প্রথম বছরের শেষে একটা দারুণ পেপার, দ্বিতীয় বছরে আরও দুটো, তৃতীয় বছরে থিসিস জমা। পরিকল্পনা নিখুঁত।

তারপর বাস্তবতা আসে।

PhD mood
অনেক পিএইচডি শিক্ষার্থীর কাছে পরিচিত একটা আকৃতি।

প্রথম বছর: প্রেমে পড়া

সবকিছু নতুন। পেপার পড়া, ক্লাস, নতুন শহর, নতুন বন্ধু। গবেষণার প্রশ্নটা মনে হয় অসাধারণ। এই পর্যায়ে অনেকে খুব বেশি পড়েন আর খুব কম লেখেন।

পরামর্শ: শুরু থেকেই লিখুন। প্রতিটা পড়া পেপারের নোট, প্রতিটা পরীক্ষার ফলাফল। থিসিস হঠাৎ একদিন লেখা হয় না; হাজারো ছোট লেখা জুড়ে তৈরি হয়।

দ্বিতীয় বছর: প্রথম ঝগড়া

প্রথম বড় পরীক্ষা কাজ করে না। ডেটা যেমন ভেবেছিলাম তেমন না। একটা পেপার জমা দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়। সুপারভাইজারের সাথে প্রথম মতবিরোধ।

পরামর্শ: ব্যর্থ পরীক্ষাও ফল। কেন কাজ করল না, সেটা লিখে রাখুন। অনেক সময় সেখান থেকেই আসল আবিষ্কার আসে।

তৃতীয় বছর: সম্পর্কে টানাপোড়েন

এটাকে অনেকে বলেন "মধ্য-পিএইচডির খাদ"। বন্ধুরা চাকরি করছে, বিয়ে করছে, বাড়ি কিনছে। আর আপনি এখনো একটা গ্রাফের অক্ষ ঠিক করছেন। মনে হয় কোনো অগ্রগতি নেই, আর প্রশ্ন জাগে: "কেন এই পথে এলাম?"

পরামর্শ:

চতুর্থ বছর: সম্পর্ক মেরামত

ধীরে ধীরে টুকরোগুলো জোড়া লাগতে শুরু করে। একটা পেপার গৃহীত হয়। কনফারেন্সে কেউ আপনার কাজ নিয়ে আগ্রহ দেখান। আপনি বুঝতে পারেন, আপনার ছোট্ট গবেষণার ক্ষেত্রে আপনি এখন পৃথিবীর অল্প কয়েকজন বিশেষজ্ঞের একজন।

পঞ্চম বছর: বিদায়ের প্রস্তুতি

থিসিস লেখা, ডিফেন্স, আর তারপর হঠাৎ একদিন নামের আগে "ড."। আর মজার ব্যাপার, শেষ দিকে এসে গবেষণার বিষয়টার প্রতি আবার একটা মায়া জন্মায়, প্রথম প্রেমের মতো, শুধু এবার অনেক বেশি পরিপক্ব।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ কথা

পরিবারের প্রত্যাশা ("কবে শেষ হবে?", "বিয়ে করবি কবে?"), দেশে থাকা আত্মীয়দের ধারণা যে বিদেশে পড়া মানে আরাম, বৃত্তির সীমিত টাকায় চলা, আর একাকীত্ব। এগুলো বাড়তি চাপ। পরিবারকে গবেষণার বাস্তবতা একটু বুঝিয়ে বলুন; অনেক সময় তারা শুধু জানেন না।

শেষ কথা

পিএইচডি একটা দীর্ঘ সম্পর্ক, যেখানে প্রেম আছে, বিরহ আছে, ঝগড়া আছে, আর শেষে একটা গভীর বোঝাপড়া। সবাই একই সময়ে, একইভাবে পার হন না, আর সেটা স্বাভাবিক। যদি এখন খাদের মধ্যে থাকেন, মনে রাখবেন গ্রাফটা এখানে শেষ হয় না। ধৈর্য ধরুন, নিজের যত্ন নিন, আর লিখতে থাকুন।

// related

// prefer the terminal?

Open the terminal blog and type read phd-pach-bochhorer-prem-o-biroho.