ফিগমা শিখলেই কি ডিজাইনার?

"তিন সপ্তাহে ফিগমা শিখে UI/UX ডিজাইনার হোন!" এমন বিজ্ঞাপন আজকাল প্রায়ই চোখে পড়ে। ফিগমা দারুণ একটা টুল, আর শিখতে বেশি সময়ও লাগে না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, টুল জানলেই কি ডিজাইনার হওয়া যায়?
এমএস ওয়ার্ড চালাতে পারলেই কেউ লেখক হন না। ফটোশপ জানলেই কেউ শিল্পী হন না। ফিগমার ক্ষেত্রেও একই কথা।

ডিজাইন মানে সমস্যা সমাধান
UI/UX ডিজাইনারের আসল কাজ সুন্দর স্ক্রিন বানানো না; কাজ হলো মানুষের একটা সমস্যা সহজে সমাধান করা। সুন্দর দেখানো তার একটা অংশ মাত্র।
একটা ফুড ডেলিভারি অ্যাপের কথা ভাবুন। ডিজাইনারকে প্রশ্ন করতে হয়:
- মানুষ সাধারণত কখন, কেন অর্ডার দেন? ক্ষুধার্ত, তাড়াহুড়ায়, এক হাতে ফোন নিয়ে?
- সবচেয়ে বড় বিরক্তি কোথায়? ডেলিভারি দেরি, ভুল ঠিকানা, পেমেন্টের ঝামেলা?
- কোন তথ্য না পেলে মানুষ অর্ডার দিতে দ্বিধা করেন?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ফিগমা দেয় না।
যা আসলে শিখতে হয়
১. ব্যবহারকারীকে বোঝা। মানুষের সাথে কথা বলা, তাদের ব্যবহার করতে দেখা, অনুমানের বদলে পর্যবেক্ষণ। একে বলে ইউজার রিসার্চ।
২. ভিজ্যুয়াল মৌলিক বিষয়। টাইপোগ্রাফি, জায়গা (spacing), রং, সারিবদ্ধতা (alignment), ভিজ্যুয়াল হায়ারার্কি। এগুলো না জানলে টুল যতই ভালো হোক, ফল অগোছালো।
৩. সমস্যা সংজ্ঞায়িত করা। "অ্যাপটা সুন্দর করো" কোনো সমস্যা না। "নতুন ব্যবহারকারীরা প্রথম অর্ডার দেওয়ার আগে চলে যান" একটা সমস্যা।
৪. প্রোটোটাইপ আর পরীক্ষা। দ্রুত একটা খসড়া বানিয়ে আসল মানুষকে দিয়ে চালানো, তারপর উন্নত করা।
৫. যোগাযোগ। কেন এই ডিজাইন, সেটা ব্যাখ্যা করতে পারা। ডেভেলপার, ম্যানেজার, ক্লায়েন্টের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া। সমালোচনা ব্যক্তিগতভাবে না নেওয়া।
৬. প্রযুক্তির সীমা বোঝা। কোনটা বানানো সহজ, কোনটা কঠিন, কোনটা ধীর ইন্টারনেটে ভারী হবে। ডেভেলপারদের সাথে ভালো সম্পর্ক এখান থেকেই শুরু হয়।
পোর্টফোলিওতে কী দেখাবেন
অনেকে পোর্টফোলিওতে শুধু সুন্দর স্ক্রিনশট দেন। নিয়োগকর্তারা দেখতে চান প্রক্রিয়া:
- সমস্যাটা কী ছিল
- কাদের জন্য, তাদের সম্পর্কে কী জানলেন
- কোন কোন বিকল্প ভেবেছিলেন, কেন বাদ দিলেন
- পরীক্ষায় কী শিখলেন, কী বদলালেন
- ফলাফল কী হলো
একটা সাধারণ দেখতে কিন্তু চিন্তাশীল কেস স্টাডি দশটা চকচকে কিন্তু অর্থহীন স্ক্রিনের চেয়ে অনেক বেশি কাজের।
একটা অনুশীলন
যেকোনো একটা অ্যাপ বেছে নিন যেটা আপনার কাছে বিরক্তিকর লাগে। তিনজন মানুষকে দিয়ে একটা নির্দিষ্ট কাজ করান আর দেখুন কোথায় তারা আটকায়। তারপর সমস্যাটা লিখুন, সমাধান ভাবুন, ফিগমায় প্রোটোটাইপ বানান, আবার সেই তিনজনকে দিয়ে পরীক্ষা করুন। এই পুরো যাত্রাটাই আপনার প্রথম কেস স্টাডি।
শেষ কথা
ফিগমা শিখুন, অবশ্যই। এটা আধুনিক ডিজাইনের সবচেয়ে জনপ্রিয় টুলগুলোর একটা। কিন্তু মনে রাখবেন, টুল হলো কলম। ভালো লেখক হতে কলমের চেয়ে অনেক বেশি কিছু লাগে: পর্যবেক্ষণ, চিন্তা, সহমর্মিতা আর অনুশীলন। আর এই জিনিসগুলো তিন সপ্তাহে আসে না, কিন্তু একবার এলে কোনো টুল বদলালেও হারায় না।