বিসিএস নাকি প্রাইভেট জব নাকি বিদেশ?

বিশ্ববিদ্যালয় শেষ হওয়ার আগেই প্রশ্নটা শুরু হয়, আত্মীয়দের কাছ থেকে, বন্ধুদের কাছ থেকে, নিজের মাথার ভেতর থেকে: "কী করবি? বিসিএস দিবি? নাকি চাকরি? নাকি বাইরে চলে যাবি?"
এই প্রশ্নের একটা "সঠিক" উত্তর নেই। কিন্তু চিন্তা করার একটা পরিষ্কার উপায় আছে।

বিসিএস ও সরকারি চাকরি
ভালো দিক: চাকরির নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা, পেনশন, পরিবারের কাছাকাছি থাকার সম্ভাবনা, দেশের সেবায় সরাসরি ভূমিকা।
চ্যালেঞ্জ: প্রস্তুতিতে দীর্ঘ সময় (কয়েক বছরও লাগতে পারে), প্রতিযোগিতা প্রচণ্ড, সাফল্যের নিশ্চয়তা নেই। প্রস্তুতির বছরগুলোতে অন্য দক্ষতা অর্জনের সুযোগ কমে যেতে পারে।
যাদের জন্য ভালো: যারা নীতি, প্রশাসন, জনসেবায় সত্যিই আগ্রহী, আর দীর্ঘ প্রস্তুতির মানসিক ও আর্থিক সামর্থ্য আছে।
প্রাইভেট চাকরি
ভালো দিক: দ্রুত কাজ শুরু, দ্রুত শেখা, দক্ষতা অনুযায়ী বেতন বৃদ্ধি, বিভিন্ন খাতে যাওয়ার সুযোগ।
চ্যালেঞ্জ: নিরাপত্তা কম, কাজের চাপ বেশি হতে পারে, প্রতিষ্ঠানভেদে পরিবেশ অনেক আলাদা।
যাদের জন্য ভালো: যারা দ্রুত শিখতে, দক্ষতা দিয়ে এগোতে, আর পরিবর্তন সামলাতে পছন্দ করেন।
বিদেশ (উচ্চশিক্ষা বা চাকরি)
ভালো দিক: আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, গবেষণার সুযোগ, ভিন্ন সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা, অনেক ক্ষেত্রে বেশি আয়।
চ্যালেঞ্জ: পরিবার থেকে দূরে থাকা, নতুন করে শুরু, ভিসা ও আর্থিক অনিশ্চয়তা, একাকীত্ব, আর অনেক ক্ষেত্রে দেশের ডিগ্রি ও অভিজ্ঞতার কম মূল্যায়ন। (আমি নিজে এই পথে আছি, তাই এর আনন্দ আর কষ্ট দুটোই জানি।)
যাদের জন্য ভালো: যারা নির্দিষ্ট গবেষণা বা পেশাগত লক্ষ্যে বিদেশি সুযোগ দরকার মনে করেন, আর অনিশ্চয়তা সামলানোর মানসিক প্রস্তুতি আছে।
সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাঁচটা প্রশ্ন
- আমি আসলে কী কাজ করতে উপভোগ করি? মর্যাদা বা বেতনের বাইরে, প্রতিদিনের কাজটা।
- আমার আর্থিক অবস্থা কতটা সময় অপেক্ষা করার সুযোগ দেয়?
- পরিবারের প্রতি আমার দায়িত্ব কেমন? কাছে থাকা কতটা জরুরি?
- ঝুঁকি নেওয়ার ব্যাপারে আমি কেমন?
- পাঁচ বছর পর আমি নিজেকে কোথায় দেখতে চাই?
একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা: পথগুলো আলাদা না
অনেকে প্রাইভেট চাকরি করতে করতে বিসিএসের প্রস্তুতি নেন। অনেকে কয়েক বছর কাজ করে তারপর উচ্চশিক্ষায় যান, তখন অভিজ্ঞতার কারণে স্কলারশিপ পাওয়া সহজ হয়। অনেকে বিদেশে পড়ে দেশে ফিরে দারুণ কাজ করছেন। সিদ্ধান্ত চিরস্থায়ী না।
অন্যের চাপ সামলাবেন কীভাবে
আত্মীয়রা ভালো চান, কিন্তু তাদের অভিজ্ঞতা আরেক যুগের। তাদের কথা শুনুন, সম্মান করুন, কিন্তু সিদ্ধান্ত নিন নিজের তথ্য আর মূল্যবোধ দিয়ে। শেষ পর্যন্ত প্রতিদিন সকালে কাজে যাবেন আপনি, তারা না।
শেষ কথা
"সবচেয়ে ভালো ক্যারিয়ার" বলে কিছু নেই; আছে আপনার জন্য সঠিক ক্যারিয়ার। আর সঠিক ক্যারিয়ারও সময়ের সাথে বদলায়। আজ যা বেছে নেবেন, সেটা শেষ সিদ্ধান্ত না, প্রথম পদক্ষেপ। সাহসের সাথে বাছুন, আর প্রয়োজনে পথ বদলাতে লজ্জা পাবেন না।