AI কি আমাদের চাকরি খেয়ে ফেলবে?

চায়ের দোকানে বসে এক বড় ভাই বললেন, "শুনছস? এখন AI সব কাজ করে দিবে। কয়দিন পর আমগো আর চাকরি থাকব না।" পাশ থেকে আরেকজন বললেন, "ধুর, এগুলা হুজুগ।" দুজনের কথাতেই কিছুটা সত্যি, আর অনেকটা ভুল।
কাজ আসলে অনেকগুলো ছোট কাজের সমষ্টি
কারো চাকরি একটা কাজ না। একজন অফিস কর্মকর্তা ইমেইল লেখেন, রিপোর্ট বানান, মিটিং করেন, সমস্যা সমাধান করেন, মানুষ সামলান। AI এর মধ্যে কিছু কাজ খুব ভালো পারে, কিছু একদমই পারে না।

যে কাজ পুনরাবৃত্তিমূলক, নিয়মমাফিক, আর কম্পিউটারে হয়, সেগুলো সবচেয়ে বেশি বদলাবে। যে কাজে হাতে-কলমে দক্ষতা, মানুষের সাথে সম্পর্ক, বা দায়িত্ব নেওয়া লাগে, সেগুলো তুলনামূলক নিরাপদ।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে
আমাদের অর্থনীতির একটা বড় অংশ এমন কাজের ওপর নির্ভর করে যেগুলো AI এর প্রভাবের মধ্যে পড়তে পারে: কল সেন্টার, ডেটা এন্ট্রি, কিছু ধরনের ফ্রিল্যান্সিং (সাধারণ কনটেন্ট লেখা, বেসিক গ্রাফিক ডিজাইন, অনুবাদ)। এগুলোতে প্রতিযোগিতা বাড়বে, আর সাধারণ মানের কাজের দাম কমতে পারে।
আবার সুযোগও আছে:
- AI টুল ব্যবহার করে একজন ফ্রিল্যান্সার আগের চেয়ে অনেক বেশি কাজ, অনেক দ্রুত করতে পারেন।
- বাংলা ভাষা ও স্থানীয় প্রেক্ষাপট বোঝা মানুষের চাহিদা থাকবে, কারণ AI এখনো এসব জায়গায় দুর্বল।
- AI সিস্টেম বানানো, পরীক্ষা করা, ডেটা প্রস্তুত করা, এসব নতুন কাজ তৈরি হচ্ছে।
কী শিখবেন
১. AI টুল ব্যবহার করতে শিখুন। প্রতিদিন নিজের কাজে ব্যবহার করুন। AI আপনার চাকরি নেবে না, কিন্তু AI ভালো ব্যবহার করা একজন মানুষ আপনার চাকরির জন্য বড় প্রতিযোগী হবে।
২. নিজের বিষয়ে গভীর হন। একজন হিসাবরক্ষক যিনি AI বোঝেন, তিনি AI ছাড়া হিসাবরক্ষক আর হিসাব না বোঝা AI দুটোকেই হারাবেন।
৩. যোগাযোগ দক্ষতা। পরিষ্কার লেখা, গুছিয়ে বলা, মানুষকে বোঝানো। AI এর যুগে এগুলোর দাম বাড়ছে।
৪. সমালোচনামূলক চিন্তা। AI এর উত্তর কখন ভুল, সেটা ধরতে পারা একটা বড় দক্ষতা।
৫. শেখার অভ্যাস। যে প্রযুক্তি আজ নতুন, পাঁচ বছর পর পুরনো। শেখা থামানো যাবে না।
নীতিনির্ধারকদের জন্য একটা কথা
পরিবর্তনের চাপ সবার ওপর সমানভাবে পড়বে না। যাদের কাজ বেশি ঝুঁকিতে, তাদের জন্য প্রশিক্ষণ, নতুন দক্ষতা শেখার সুযোগ আর সামাজিক সুরক্ষা দরকার। এটা শুধু ব্যক্তির দায়িত্ব না।
শেষ কথা
চায়ের দোকানের দুই ভাইকেই বলতে চাই: AI সব কাজ খেয়ে ফেলবে না, আবার এটা নিছক হুজুগও না। এটা অনেক কাজের চেহারা বদলে দেবে, ঠিক যেমন কম্পিউটার আর ইন্টারনেট দিয়েছিল। যারা তখন শিখে নিয়েছিলেন, তারা এগিয়ে গিয়েছিলেন। এবারও তাই হবে। ভয় পেয়ে বসে থাকার চেয়ে আজ একটা নতুন টুল শিখে ফেলাই ভালো সিদ্ধান্ত।